সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

পোর্টফলিও সেপ্টম্বর ২০০৪

যেদিন বস্তির সবার তাড়া খেয়ে আমি দিকভ্রষ্ট; 
হারালাম নিরুদ্দিষ্টে। মনে পড়ে দু'হাজার চার সেপ্টেম্বরের কোনো এক সন্ধ্যায়। 
মনে পড়ে আবছা আলোয় ট্রেন
মনে পড়ে আবছা তোর ছবি 
মনে পড়ে ক্লান্তির ঘর ঘোর ঘুম। 
ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছিলো অনিশ্চিত; আবছা পুরনো দিন;ক্রমশ চশমার কাঁচে 
জমা উটকো ধুলো। 
 .
জেনে বুঝেও তোর আবছা ছবি দেয়ালে 
যদিও আজ কোন ঘর নেই নিজের;কাকতাল মিলে যাওয়া কারও পিঠে বিঁধে থাকা 
কাঁটাতারে তোর পোট্রেট ঝোলে। 
আমি খুঁটতে থাকি অনিশ্চিতের মানচিত্র; 
রেখার শেষ নেই 
বাঁকের ছেঁড়া অংশ ঠিকানা কুড়ানো কম্পাসের কাঁটা;থেমে থেমে হারিয়ে যাবার ভয় 
দেখায় বারবার;আমি ভীত নই জেনেও অন্ধকারে বেজে চলে তোর হাতের চেনা চাবির 
গোছার নূপুর।
.
অথচ বৃষ্টিভেজা সেদিনের কাক'টা বলেছিলো -
কালোরঙ মেঘভর্তি ছাদে এখনও তুই বসে থাকিস বৃষ্টির আশায়;ভিজবি বলে 
বৃষ্টি শেষে চুল শুকাবি; ফুরফুর আর্দ্র বাতাসে। 
.
তোর ইচ্ছায় আমারও বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে হল।
............................................................................. 
 রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২৪.১.১৭

উটকো ড্রামা


নদী দেখতে চাও? নর্দমা দেখো; মাছ? জমকালো জলে উচ্চমার্গিয় নৃত্যরত কালো কীট। তোমরাই তো প্রজুক্তির দোহাই এর ঘোরে হাঁটো; প্রতিরাতে পায়চারি আর ফিসফিসে জ্যোৎস্না ভেঙে হেঁটে ফিরে দাড়ি কমা সেমিকোলনের ক্যাপসুল বানাও আর ঘোষণা করো দৌড়ের, প্রতিবন্ধকতা চিবিয়ে খায় জানাশোনা কোন মগজের খাদক গলি; কুঁচকুঁচে পঁয়চল্লিশ ডিগ্রি; ভাঙাচোরা ডিগ্রি গোগ্রাসে টিনএজ ড্রিম ড্রামা । . 
ঘোরগ্রস্ত আমিও গিলে চলি নর্দমা জল আর বেঁচে থাকা ।
..........................................................................................................................
 রুদ্র নীলিম/ ঢাকা/ ২৭/১০/১৬

ক্যামেরাবন্দি সুখ ২০০৩

.....................................................................
পুলকিতা,
তোমার স্বপ্নচোর বন্দি ঘোরের শেকলে; উপরের সামিয়ানার আলো আধখানা
আবছা পাটখড়ি শরীরের ছায়ায় কুয়াশা
আর
সোডিয়াম;ফ্যান্টাসি ড্রিমে ফুটপাথে অগনিত জানালা

তবুও
চুলচেরা চোখাচোখি দেখছে মধ্যেবয়সী ক্যামেরার চোখ
আর আগামীকাল হাসছে হ্যাংলা সুখে
.
আমাদের চোখাচোখি আটকে আছে তো আছেই।
............................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৬.২.১৭

মোমের আলোয় আঁকা ২০০৪

.....................................................................
কি একটা আঁকবো বলে সকালে তোর কফির কাপ কেড়ে নেয়া রোদ আর আমার গোপন আঁতাত;তুই উড়ে গেলি ঘুড়ি হয়ে বিয়ানের কুয়াশা ফুঁড়ে; দারুণ গতি ছিল; আকাশে চোখ চাওয়া কতদিন কতকাল জানা নেই
আমিও অপেক্ষার পাগলা রক ওয়েটিং এ ভাঙা এক চেয়ারে কাটিয়ে দিলাম
গণনাবিহীন কুয়াশা বয়স;বসন্ত আর শিমুল তুলো মাখা চঞ্চল চোখ চাওয়া
ঘুমঘোর। অথচ তুই বর্ষার ছাইভস্ম মেখে দাঁড়ালে বিকালি জানালায়। মাঠ ভর্তি বিদিঘাস ঠায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলো,চিনেছিলি আমাকে সাঁঝের ঘর ফিরতি রাখাল;হাতে আধহাত মাপের শাসনের মসৃণ লাঠি।

তুইও ফিরে গেলি
তুইও রেখে গেলি
তুইও মেখে গেলি
নাগরিক প্রসাধনী;নীল রঙ মনেরাখা অবাধ্য আঁকিবুঁকি
আমার ক্যানভাস চুরি হয়ে গেলো যেটায় তোর ছাপে একটা অসমাপ্ত সুখের
মানচিত্র আঁচড় লুকানো ছিলো
........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৬.২.১৭

বসন্তদিন

..................................................................
কোন এক দিনের ভাঁজে রাখাছিলো জোনাকির আত্মহত্যার মিথ
ফসিলে মায়াবী কান্নামাখা রোদ
বুকে লেপটে আছে অচিনপুরের হাইওয়ে
পায়ে নিগারো পথনদী;ভেসে যায় কোন দূরে;সমুদ্দুরে
একটা চিঠি ভাসে জালের মায়ামাখা আর্দ্র স্রোতে

সেই কবেকার কিছু অক্ষরের কথা রঙের আকাশি পাতায়
সেই থেকে অপেক্ষা উড়ে উড়ে ফিরে গেলো শূন্যতার সন্ধ্যা'কাশে নির্লিপ্ত অন্ধ ফানুস;অন্ধকারে
অতঃপর অভিমানের কাঁটাতারে
কেটেছি ছিঁড়েছি;ইচ্ছেমতো;এ আলোকবর্ষ হতে তোর চোখে গলে যাওয়া ছোট্ট মোমালোর আদিম মেলায় প্রস্থানের অনন্ত মোহে
আজ
আমি ডানাছেঁড়া ভ্রমর এক।
.
চারিদিকে তুমুল বসন্ত বাতাস
আর লাল শিমুল আগুন আকাশে
...........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৩.২.১৭

জন্মকাল ও বিবিধ উপহার

.................................................................................
পুলকিতা,
আয়নায় তোমার ছবি দেখো না;মুখোশপণ্ডিত জেনে যাবে;আগামী খবরের পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হবে ঝলসানো একটা ছবি,
রোজ রাতে ঘুমের অন্তর্বাস খুলে গেলে যেমন কাঁদে ঝিঁঝিঁপোকা
শহুরে অন্ধকার আর গুমোট বাতাসি ঝড় ছুঁয়ে দেবে একটা একটা করে জমানো চকচকে মুক্তা তোমার;আটত্রিশ বসন্ত আর গোপন নির্বাসনে নিয়মের অসুখ সেরে গেলে এক স্বপ্নচোর তাঁর লুকোনো গ্যালাক্সি খুঁড়ে খুঁড়ে খুঁজে পেয়েছিলো একটা মৃত ট্রেন তৃষ্ণার্ত জংশন;আপেল রঙের কৌটায় বৃদ্ধ এক ঘড়ি আর সে-ই মুক্তা পালিশের মানচিত্র;গুপ্তধন চুরি গেলে হারাবার আর কিই বাকি থাকে তোমার! তারচে বরং একটা বালিশ চেয়ে নাও মৃত ঝর্ণার কাছে;ঘুমাতে যাও আর চোখের পর্দা কে হুশিয়ারি জানাও;বলে দাও-
আঠারো মাসের ফেলে আসা ঘাসফুল গাঁও রোদ ফড়িঙের পাখার ঝলকানি
কুল কুল বয়ে যাওয়া বর্ষায় পোয়াতি নদীধারার কাছে পা না মাড়ায় ভুল করেও!

তারচে বরং একটা সার্কাস এঁকো নিঃশ্বাসের গায়ে।
.......................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২.৩.১৭

নিঃশ্বাস

............................................................
একটা উন্মাদ তোর পিঠ চুলকায়;নগ্ন জ্যোৎস্নায়
বেহেস্তি হুর ধীর লয়ে পিরিতের গান গায়
বাতাসি সৌরভ শুঁকে শুঁকে হেঁটে যায় একটা কুকুরের ছায়া;তোরই বুক থেকে চেটে নেয় চেনা গন্তব্য
আমি আর অবাক হই না ।
.....................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২৩.২.১৭