সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

পোর্টফলিও সেপ্টম্বর ২০০৪

যেদিন বস্তির সবার তাড়া খেয়ে আমি দিকভ্রষ্ট; 
হারালাম নিরুদ্দিষ্টে। মনে পড়ে দু'হাজার চার সেপ্টেম্বরের কোনো এক সন্ধ্যায়। 
মনে পড়ে আবছা আলোয় ট্রেন
মনে পড়ে আবছা তোর ছবি 
মনে পড়ে ক্লান্তির ঘর ঘোর ঘুম। 
ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছিলো অনিশ্চিত; আবছা পুরনো দিন;ক্রমশ চশমার কাঁচে 
জমা উটকো ধুলো। 
 .
জেনে বুঝেও তোর আবছা ছবি দেয়ালে 
যদিও আজ কোন ঘর নেই নিজের;কাকতাল মিলে যাওয়া কারও পিঠে বিঁধে থাকা 
কাঁটাতারে তোর পোট্রেট ঝোলে। 
আমি খুঁটতে থাকি অনিশ্চিতের মানচিত্র; 
রেখার শেষ নেই 
বাঁকের ছেঁড়া অংশ ঠিকানা কুড়ানো কম্পাসের কাঁটা;থেমে থেমে হারিয়ে যাবার ভয় 
দেখায় বারবার;আমি ভীত নই জেনেও অন্ধকারে বেজে চলে তোর হাতের চেনা চাবির 
গোছার নূপুর।
.
অথচ বৃষ্টিভেজা সেদিনের কাক'টা বলেছিলো -
কালোরঙ মেঘভর্তি ছাদে এখনও তুই বসে থাকিস বৃষ্টির আশায়;ভিজবি বলে 
বৃষ্টি শেষে চুল শুকাবি; ফুরফুর আর্দ্র বাতাসে। 
.
তোর ইচ্ছায় আমারও বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে হল।
............................................................................. 
 রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২৪.১.১৭

উটকো ড্রামা


নদী দেখতে চাও? নর্দমা দেখো; মাছ? জমকালো জলে উচ্চমার্গিয় নৃত্যরত কালো কীট। তোমরাই তো প্রজুক্তির দোহাই এর ঘোরে হাঁটো; প্রতিরাতে পায়চারি আর ফিসফিসে জ্যোৎস্না ভেঙে হেঁটে ফিরে দাড়ি কমা সেমিকোলনের ক্যাপসুল বানাও আর ঘোষণা করো দৌড়ের, প্রতিবন্ধকতা চিবিয়ে খায় জানাশোনা কোন মগজের খাদক গলি; কুঁচকুঁচে পঁয়চল্লিশ ডিগ্রি; ভাঙাচোরা ডিগ্রি গোগ্রাসে টিনএজ ড্রিম ড্রামা । . 
ঘোরগ্রস্ত আমিও গিলে চলি নর্দমা জল আর বেঁচে থাকা ।
..........................................................................................................................
 রুদ্র নীলিম/ ঢাকা/ ২৭/১০/১৬

ক্যামেরাবন্দি সুখ ২০০৩

.....................................................................
পুলকিতা,
তোমার স্বপ্নচোর বন্দি ঘোরের শেকলে; উপরের সামিয়ানার আলো আধখানা
আবছা পাটখড়ি শরীরের ছায়ায় কুয়াশা
আর
সোডিয়াম;ফ্যান্টাসি ড্রিমে ফুটপাথে অগনিত জানালা

তবুও
চুলচেরা চোখাচোখি দেখছে মধ্যেবয়সী ক্যামেরার চোখ
আর আগামীকাল হাসছে হ্যাংলা সুখে
.
আমাদের চোখাচোখি আটকে আছে তো আছেই।
............................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৬.২.১৭

মোমের আলোয় আঁকা ২০০৪

.....................................................................
কি একটা আঁকবো বলে সকালে তোর কফির কাপ কেড়ে নেয়া রোদ আর আমার গোপন আঁতাত;তুই উড়ে গেলি ঘুড়ি হয়ে বিয়ানের কুয়াশা ফুঁড়ে; দারুণ গতি ছিল; আকাশে চোখ চাওয়া কতদিন কতকাল জানা নেই
আমিও অপেক্ষার পাগলা রক ওয়েটিং এ ভাঙা এক চেয়ারে কাটিয়ে দিলাম
গণনাবিহীন কুয়াশা বয়স;বসন্ত আর শিমুল তুলো মাখা চঞ্চল চোখ চাওয়া
ঘুমঘোর। অথচ তুই বর্ষার ছাইভস্ম মেখে দাঁড়ালে বিকালি জানালায়। মাঠ ভর্তি বিদিঘাস ঠায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলো,চিনেছিলি আমাকে সাঁঝের ঘর ফিরতি রাখাল;হাতে আধহাত মাপের শাসনের মসৃণ লাঠি।

তুইও ফিরে গেলি
তুইও রেখে গেলি
তুইও মেখে গেলি
নাগরিক প্রসাধনী;নীল রঙ মনেরাখা অবাধ্য আঁকিবুঁকি
আমার ক্যানভাস চুরি হয়ে গেলো যেটায় তোর ছাপে একটা অসমাপ্ত সুখের
মানচিত্র আঁচড় লুকানো ছিলো
........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৬.২.১৭

বসন্তদিন

..................................................................
কোন এক দিনের ভাঁজে রাখাছিলো জোনাকির আত্মহত্যার মিথ
ফসিলে মায়াবী কান্নামাখা রোদ
বুকে লেপটে আছে অচিনপুরের হাইওয়ে
পায়ে নিগারো পথনদী;ভেসে যায় কোন দূরে;সমুদ্দুরে
একটা চিঠি ভাসে জালের মায়ামাখা আর্দ্র স্রোতে

সেই কবেকার কিছু অক্ষরের কথা রঙের আকাশি পাতায়
সেই থেকে অপেক্ষা উড়ে উড়ে ফিরে গেলো শূন্যতার সন্ধ্যা'কাশে নির্লিপ্ত অন্ধ ফানুস;অন্ধকারে
অতঃপর অভিমানের কাঁটাতারে
কেটেছি ছিঁড়েছি;ইচ্ছেমতো;এ আলোকবর্ষ হতে তোর চোখে গলে যাওয়া ছোট্ট মোমালোর আদিম মেলায় প্রস্থানের অনন্ত মোহে
আজ
আমি ডানাছেঁড়া ভ্রমর এক।
.
চারিদিকে তুমুল বসন্ত বাতাস
আর লাল শিমুল আগুন আকাশে
...........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৩.২.১৭

জন্মকাল ও বিবিধ উপহার

.................................................................................
পুলকিতা,
আয়নায় তোমার ছবি দেখো না;মুখোশপণ্ডিত জেনে যাবে;আগামী খবরের পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হবে ঝলসানো একটা ছবি,
রোজ রাতে ঘুমের অন্তর্বাস খুলে গেলে যেমন কাঁদে ঝিঁঝিঁপোকা
শহুরে অন্ধকার আর গুমোট বাতাসি ঝড় ছুঁয়ে দেবে একটা একটা করে জমানো চকচকে মুক্তা তোমার;আটত্রিশ বসন্ত আর গোপন নির্বাসনে নিয়মের অসুখ সেরে গেলে এক স্বপ্নচোর তাঁর লুকোনো গ্যালাক্সি খুঁড়ে খুঁড়ে খুঁজে পেয়েছিলো একটা মৃত ট্রেন তৃষ্ণার্ত জংশন;আপেল রঙের কৌটায় বৃদ্ধ এক ঘড়ি আর সে-ই মুক্তা পালিশের মানচিত্র;গুপ্তধন চুরি গেলে হারাবার আর কিই বাকি থাকে তোমার! তারচে বরং একটা বালিশ চেয়ে নাও মৃত ঝর্ণার কাছে;ঘুমাতে যাও আর চোখের পর্দা কে হুশিয়ারি জানাও;বলে দাও-
আঠারো মাসের ফেলে আসা ঘাসফুল গাঁও রোদ ফড়িঙের পাখার ঝলকানি
কুল কুল বয়ে যাওয়া বর্ষায় পোয়াতি নদীধারার কাছে পা না মাড়ায় ভুল করেও!

তারচে বরং একটা সার্কাস এঁকো নিঃশ্বাসের গায়ে।
.......................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২.৩.১৭

নিঃশ্বাস

............................................................
একটা উন্মাদ তোর পিঠ চুলকায়;নগ্ন জ্যোৎস্নায়
বেহেস্তি হুর ধীর লয়ে পিরিতের গান গায়
বাতাসি সৌরভ শুঁকে শুঁকে হেঁটে যায় একটা কুকুরের ছায়া;তোরই বুক থেকে চেটে নেয় চেনা গন্তব্য
আমি আর অবাক হই না ।
.....................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২৩.২.১৭

শোক হন্তারক

...................................................
শোক কিনবো বলে প্রেমের দোকানে;প্রতারণার লাল মুণ্ডু ঝোলাবো গর্বের মগডালে।
জ্বলুক মোম আলো;আলুথালু চাঁদের রাতে।
মলিন মুখোশ কেড়েছি এক ভিখিরির লুঙ্গির কোঁচা থেকে;প্রতিবাদের প্রত্যুত্তর;বাস্টার্ড! লাওয়ারিশ কোথাকার!
ভিখিরি ভুলে গেছে;পেটের খিদে মিটেছে বিদেশি খিস্তি খাবারে।
আমার ভাইয়ের রক্তে ভেসে যাচ্ছে সময়;ইটস প্রেস্টিজ ইস্যু!
আজ মনের খিদে;গর্বের আলোপোকা ওড়ে;
রাত বারোটা এক
নীরবতা এক মিনিট!
তারপর কেএফসি না হয় ম্যাক;গ্লাসে হুইস্কির আইস ক্লিয়ার,
চশমার কাঁচে ঝাপসা অ আ ক খ;আই অ্যাম রিয়েল লাভার অব দ্য মাদার ল্যাংগুয়েজ ডেজে ফিট!
..................................................................
রুদ্র নীলিম/নওগাঁ/২১.২.১৭

শিল্প এবং চতুস্পদ

...............................................................
চতুস্পদ। ঠিক চতুস্পদ না, দ্বিপদই ছিলো কোন একদিন,হলোই না হয় চতুস্পদ চকচকে ছাপানোট ছিলো না কিংবা ছিলোই;আছে পকেট মগের মুলুকের সিন্দুকে;শিকড় নেই বাকড় নেই কিংবা শিকড় ছিল আছে এই শহরে কিংবা নেই;আঁতুড় থেকে না বেরুতেই কেউ একজন হয়ে গেলেন তুখোড় মগজওয়ালা মাতুব্বর কিংবা মগজ ছিলোই না! আগে থেকেই সে বুড়ো বেশ হোমোড়া চোমড়া;কিংবা দুধের বালক;ছাপানোটের আকাশে;পদ্মলোচন বুক উল্টায়;কিনে নেয়া একজোড়া মাংসপিণ্ড;কেউ দেখেছিল হয়তো; হয়তো দেখেইনি;কাহিনী এখানেই খতম;নসিমন ভটভটি;তিন চাক্কার উড়াল শব্দ; রূপচর্চার দোকান এর কাছে এলেই চোখে আঁকা দুগ্ধবালক নগদ প্রেমিক বনে যান;সেই চতুস্পদ;সারমেয় শিশ্ন আর দ্বিপদ এর কোন তফাৎ খোঁজে না কিংবা খুঁজে খুঁজে তবু রোজ অন্ধকার গলিপথ মাড়ান;কার আঁচলে উঁহু টান;শিল্প চেনে;শিল্প কেনে অন্ধকারেও শিল্প থাকে শিল্পী থাকে।
.....................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৮.২.১৭

কাকের দূরবীন

.
বয়সের বরফ কুঁচি কাঁচের গ্লাসে;ঢক-ঢক গিলে বরফ হয়ে গেলো আগুন
বয়স তখন শীতকালে'র পথ ধরে এগুচ্ছে
বয়স এর ঘুম পাচ্ছে
অথচ একটা হলুদ কুকুর কুয়াশা বেয়ে উঠে যাচ্ছে
সূর্যটা খাবার মোহে
বয়সের চোখ পাথরের তৈরি সেটা কেউ জানতো না
সূর্যটাও জেনে শুনে নির্বিকার
.
হলুদ চতুস্পদ উঠে যাচ্ছে তরতর
.................................................................
রুদ্র নীলিম/ ২৮.৪.১৭

আকাশি চিরকুট

............................................................................
.
পুলকিতা,
তুমিই বরং শান্তিতে;ঘুম শহরের ড্রাগনফ্লাই
শুধু চোখ বুজে দেখে চলা নিরব নিরালা বাতাসে
ঘাসে ঘাস আর ফুলে ফুল হয়ে মেখে নিচ্ছ তন্দ্রার যাবতীয় আদর;
আহ্লাদী স্বর এখন চিকন তরঙ্গের ডাকপিয়ন;পোস্টঅফিস বিহীন
পত্র আদান প্রদানের মোক্ষম মায়াবী নোটবুক;
নকশা কিংবা কোন আঁচড় বিহীন সাদাপাতা;অগণিত স্বপ্ন আর স্বপ্ন

.
আমার জলের পিঠে আগুন
প্রতিরাত চন্দ্রগ্রহণের হুল্লোড়ে
এলোমেলো গিরিখাদ;সুখের জানালা ক্বচিৎ নীলাকাশ
আর আয়নার ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকা;স্বপ্ন দেখাবার
ইচ্ছেটা বারবার মিথ্যা হয়ে যায়;আঁকিয়ের ভুল করে আঁকা
বিন্দু পাথরটা এখন কাঁধে পাহাড়,আমি একাকী নিধুয়া পাথারে
ভেজা ঘড়ির কাদা মাখা পথে পদক্ষেপে;ভাঙা পোট্রেট এক সিরামিক
থালায় পায়ের ছাপ আঁকি;
ঘুমের বড্ড অভাব
........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৫.৫.১৭

একটা নেকাব;বৃত্ত আর বিন্দু তামাশা

........................................................................
.
অনন্ত সুখের পূর্বাভাষ পেলেই ছিটবিট আলুথালু কথার হাটবাজার;
হাতের তালুর সীমাহীন রেখার মাঠে নেকাব বিহীন তোর বেপরোয়া পায়ের ছাপ এঁকে দেয় সুরের রূপালি শুরাপাত্র;সোলেমানি খাবনামার পাটিগণিত মিথ্যে হয়ে যায় সিজফ্রেনিক মন্ত্রের কাছে;বিষাদের চালা'য় বাজে বুকের দোতরা;তাল লয় মুছে যাওয়া খাতায় তবুও নেচে চলে সুতোছেঁড়া ঘুড়িবাউল।
আমি তবুও রাশিফল পড়ি রোজকার খবরের পাতায়
খাবনামার প্রতিটি অক্ষরের পিঠে হারিয়ে যাওয়া তোর নেকাব খুঁজি;তারাদের অন্তর্বাস খুলে ফেলি সিমাহীন লাম্পট্যে; দুধশাদা বৃত্ত আর বিন্দুর কপালে লিখি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা!
.
ওহে সোলেমান!
তোমার খাবনামার অংকে একটা শুরার নদী
নেকাব
বেতাল দোতরা
নৃত্যরত ছায়া বাউল;আজও নিরুদ্দেশ
...........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৬.৫.১৭

এনালিসিস-১

..........................................................................
.
বাতাস দেখি
বাতাস চাখি
বাতাস মাখি;জঞ্জালের সাঁকোয়
যখন রাত্তির বয়ে যায় চিকন সুড়ঙ ধরে
আমার কাঁধ কোন রমণী ভর করে!
আপাদমস্তক দেখি
শুঁকি
শুনি;তার কণ্ঠে গান
কে যে কথা কয় তার আরশিনগরে;কি যে খোঁজে, কাকে খোঁজে?!
কানা অন্ধকার হাতড়ায়
কাগজ
ইরেজার
পেন্সিল
প্রতিবিম্ব
নাগরিক যুক্তাক্ষর; বিষণ্ণ বুদ্বুদ বুঁদ হয়ে আমি
স্বপ্নের গাছে পৃথিবী ঝুলে বুড়ো হয়
.
.......................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৪.৫.১৭(সংস্করণ এর তারিখ)

শলাকা আঁকা মেঘ

.............................................................................
.
সব ভুল সত্যি হয়ে যাক
আর সত্যি গুলো ভুল
ছিঁড়ে যাক মাধ্যাকর্ষণ এর নাটকীয় ব্যাকরণ
পাল্টে যাক আমাদের জড়াজড়ি প্রেমের প্রতিদিন অভ্যাস
তুমি অচেনা হয়ে যাও অজানা নক্ষত্রের মতো;দু-উ-র মহাশূন্যের অন্ধ
রোমান্টিসিজমে
একটা কলার ভেলায় রাতটা কাটুক; নক্ষত্র দেখার রাত
তাড়ি
বিড়ি
লাল চোখ
এক চুপচাপ মাখা শান্ত সময়;ঢুলু ঢুলু চোখ আকাশে ...
.
দূরে থাকাই ভালো। .
.........................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৪.৫.১৭

একুস্টিক ঘোর

.................................................................................
.
চারিদিকে কি সুন্দর সুর বাজে ভাংচুরের!
শকুনের বৃত্তে তোর চোখ আঁকা
আমি বিষের চাদরে মাখা
.
আর একটু সময় পেলে
দুমড়ে মুচড়ে খেয়ে নিতাম;ঘাম নিটোল দুঃসময়ের
.
তোর নিঃশ্বাস একটুও সত্য নয় বলে পূবে মেঘ জমে না
দখিনে বয়না বাতাস
জানালাটা বৃথা তাকিয়ে রয়
.
এ কথা সত্য বলে হলুদ ঘাসেরা সবুজ হতে ভুলে গেছে
আঁকছে বিদায়ের নিখুঁত নকশা

.
.............................................................................
.
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৩.৫.১৭

বাউনডুলের চিঠি

বাউনডুলের চিঠি
.......................................................................................
ভুলে গেছিলাম আজ তোমার দিন ছিল,
ঘুম থেকে জেগে খবরের কাগজের সাদা মাঠের দিকে তাকাতেই কালো অক্ষরের সহাস্য চেহারা আমার চোখে আঙুল তুলে দিলো, বলল...
তোর কি কোনো মা নেই!?
তবে এই চোখ কোথায় পেলিরে হতচ্ছাড়া!
আমি বায়ুহীন পাল, হঠাৎ হুমড়ি খেলাম ভাবনার দমকা বাতাসে, বৈশাখী ঝড়ের মতো বাউনডুলে ঘূর্ণিপাকে পড়ে চেতনা পথ হারাল, দুঃস্বপ্ন ভেঙে ফিরে এলাম তোমার কাছে। তোমার গন্ধ খুঁজে হন্যে আমার কিশোর মন ডেকে ডেকে আবার পথ হারালো সময়ের গহীন বিভ্রাটে...

মা,
তোমার মনে আছে, শৈশবের কোলে তোমার জন্য আমি কতই না স্বপ্ন কুড়িয়েছি । কৈশোরের পায়ে কখনো তপ্ত অথবা শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে ছুটেছি ডানপিটে...
তোমাকে দ্যাখাবো বলে আনন্দে কুড়িয়েছি বৈশাখে শিমুলের সাদা যৌবন, বর্ষায় অথবা শরতে হাসিমুখ পানা বেগুনি সুখ, সেই থেকে আমার জগত আবিষ্কার আর আমাকে নিয়ে তোমার নিউরনে স্বপ্নের চাষবাস...
বাউরি বসন্তে আমিও অন্ধ হয়েছিলাম চোখে বয়সের ধুলো, তখন চোখখোলা স্বপ্নের নগ্নতা এ-কা-কা-র, রোজই হারাতাম আগামীর আবীর ধুলোয়। ফিরে এসে একই ছবি, তুমি আর আমার হাতে বোনা সেই শুপারি গাছটা, তোমার শাসনের এক হাত...
তারপর একদিন বাবার দেয়া অনাদর অবহেলা, তোমার চোখে অভিমানের সিন্ধু...
সেই জলে তুমি ডুবে গেলে ...!
ও মা,
জানো, ওই নুলো ভিখেরি আজও বেঁচে আছে, মন খারাপ থাকলে যে আমার হাততালি শোনার লোভে হাতের দোতারা বাজিয়ে "আমি পাগল হব পাগল নেবো যাবো পাগলের দেশে" আর দু'চোখে ফোয়ারার মতো জল...
আমি না হেসে পাগলের মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেই ও একচোখে তাকিয়ে আবার গাইত
অন্য কোন গান,আমার হাসি হাততালি শুনে ওর অন্ধ চোখটাও যেন হেসে উঠত। ভিক্ষে না নিয়েই চলে যেত...
ও এখন বয়সের দোষে অন্ধ, কোনরকম দেহটাকে টেনে আনে আজও তবু দোতারার তারে প্রাণ বেঁধে গেয়ে যায় সে-ই গান "আমি...
সেই গানের মর্ম এখন হাড়েহাড়ে বুঝতে পারি!
আমার বয়সের ঘরে সময়ের ধুলো জমে স্মৃতিগুলো ধুসর, তুমি তো জানো ঘূর্ণিঝড় আর ধুলোর সম্পর্ক যখন আদায় আর কাঁচকলায় তখন আমিও ক্লান্ত হব তোমাকে ডেকে ডেকে...
মাগো,
আজ তোমার দিন ছিলো!
কালও আমার সোনালী দিন তোমারিই হাতে,
হেসে খেলে সন্ধ্যা এলে, এই বাউনডুলে রোজই স্নেহের গন্ধ খুঁজে খুঁজে তন্দ্রায়
সমুদ্রে
নোনাজলে...
তুমি তো জানো তোমার স্নেহের যোগ্যতা আমি কখনও ছুঁয়ে দেখিনি, না হয় ভুল করেই তোমার পা'য়ের নীচে আমাকে রেখো...
....................................................................................
রুদ্র নীলিম/নওগাঁ /১০এপ্রিল২০১৫

লালা আর লালে লাল বৃত্ত


.........................................................
.
তোর নীল চোখ কোন এক লাল চোখের লালায় নুন হয়ে গেলো।
খুন হয়ে গেলো একটা আলোকিত রাত্তির;আঁধার তবু বেঁচে আছে
একটা শুভ্র সকালের অপেক্ষায়-
আমিও বুকের হাপর ফুলিয়ে আগুন জ্বালাই;একটা দেশলাই বিহীন
ছিন্ন পেন্ডুলাম বৃত্তে
যেখানে মাটি নেই;চোখ বুজে সবুজ দেখি-
দেখি শকুনের জন্মদিন;মৃত্যু যেখানে অর্থহীন আর জীবনই বা অর্থবহ হল কবে!?
এই এক খাতা নিয়ে বসে আছি লালছাতা আঁকা আকাশের নিচে
সাদা ছড়ি
সাদা পালক
সাদা কলম
সাদা কাদা
সব সাদা
বৈধতার টিকেট খুঁজি ব্ল্যাকহোল থিয়েটার চত্বরে
এখানেই প্রদর্শিত হচ্ছে বিস্ফোরণ বিষয়ক চলচ্চিত্র ।
.
.....................................................................
.
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ৯.৫.১৭ ভোর

নিঃশ্বাসের খসড়া


..................................................................................
.
অ-নে-ক কথা আছে
আজ
কাল
পরশু
বিঁধে রইলো গলায় কাঁটা হয়ে...
.
দু'জনের আয়নায় দু'জন আটকে রইলো
পাল্টাপাল্টি; নির্বাক চলচ্চিত্র
দেখলো;এঁকে নিলো আগামী কালকের মাখামাখি আলোআঁধারির খলবলে চিত্রনাট্য
অদ্ভুত জ্যোৎস্না অথচ জ্যোৎস্নাহীন অমাবস্যাহীন রাত আঁকা হয়ে গেলো
রুটির মতো সাদা একটা ক্যানভাসে;আমাদের না বলা কথাগুলো লেগে রইলো হাউহাউ রঙিন ঘুড়ি হয়ে;সুতোছেঁড়া ...
.
তবুও
জেনে নাও,
দূরত্বে টান বাড়ে
বাড়ে ক্ষুধা
নির্জনতা ভেঙে একাকী সলতে আঁকে আরেকটা পৃথিবী।

...................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৮.৫.১৭

সামুদ্রিক রূপকথা

..............................................................................
.
ছবি আঁকবো তুই বিহীন কোন এক রাতে;ধুতুরার ঝোপে,তোর বাঁ হাতে বাঁধা সেই ধুতুরা মাতাল মাদুলিটাও বাদ যাবে না। একটা জলের পাত্রে গোল্ডফিশ। সেই মাকড় এর জাল;জানিস ওই জালে এখন আর একটা বাস্তুহারা মাকড় থাকে;ঘোরের জোনাকি খায়। উলুখাগড়ার মতো চুল এর রঙ কি হবে সেটা এখন অপ্রকাশিত থাক। একটা বিড়াল এক বাটি দুধ। তোকে কাঁদতে দেখিনি কোনদিন;হাসির খুরধার খিলিখিল শব্দটা না হয় আমার রক্ত হয়েই থাক। একটা খুনের দৃশ্য আঁকবো;শুধু রক্ত আর রক্ত; শুকিয়ে যাওয়া কালচে রঙ আর মাটির আঁকড়ে থাকা শ্যাওলার সোঁদা গন্ধ মেখে দেবো;সময় হারিয়ে গেলে যেমন কোন নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশ হয় না, হাহাকার শুধু লেগে থাকে অসময়ের দৃশ্যমান দেয়ালে সেই অপ্রকাশিত হাহাকার মাখাবো বুকের বৃত্তে,চাইলে একটা সূর্য এঁকে দিতে পারি কপালে।
সূর্যটা ঢাকা থাকবে কালো মেঘের আরালে;তুই না চাইলেও আমি অহংকার আঁকবো;শেকড় আঁকবো জাতিস্মরের জলকাদা মাখা ছেঁড়া মানচিত্রে।
.
................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ২১.৫.১৭

পেরেক


..................................................................
শ্বেত পাথরের রঙপাহাড়ের গিরিখাদে আটকে আছে কিছু জাল নোট;ধেই ধেই করে নেচেই চলেছে লং ড্রাইভ যাত্রার মাত্রাহীন ধূসর হাইওয়ে বেয়ে চতুরচক্রযান,ফুলস্পিড বাতাসের স্রোতে তখন গণনাহীন প্রেমপত্র উড়ে যাচ্ছে পায়রার ছন্দ আর পয়ারে। গন্তব্য মাখছে বৃত্ত আর বিন্দু;বিন্দু আর বৃত্ত মাপছে লাগাতার ঘুরপাক গণিতের সূত্র
যেখানে নিউটন আপেল কুড়িয়েছিল সেই আপেল বৃক্ষ আজও খোয়াব দেখছে মাধ্যাকর্ষণ এর ব্যাকরণ মেপে মেপে;এখানে ব্যাকরণ নেই
এখানে সূর্যালোক মিথ্যা
এখানে ঈশ্বর মিথ্যা
এখানে নিঃশ্বাস মিথ্যা
এখানে সুখের তানপুরা সুর মিথ্যা
এতসব সূত্র মিথ্যা জেনেও তুই ফর্সা মন্ত্রের সাবান খুঁজিস ক্রুশবিদ্ধ প্রেম ফোয়ারার ফসিলে;চোখে তারার আকাশ আঁকিস অবিরাম আর জাল নোটেরা ধুন্ধুমার টর্নেডো পাকে পেঁপে প্রজাপতি আর পাখির চিত্র গুঁজে দেয় তোর বৃত্তের গিরিখাদে। তুই জেনে বুঝে খুঁজিস সাত আসমানের কল্পিত স্বর্গ;যে স্বর্গের ঘাসেরা একদিন পড়ন্ত বিকেলে কোন এক পাঁচিলে বসে থাকা জোড়া শালিখের ছায়া মেখেছিল বলে সবুজ খসে পড়ে গেছে জং ধরা রঙের পিপায় তারপর মুছে গেছে এক এক করে বহুকালের ছায়া;মুছে গেছে ঝড়বিদ্যা'র মেঘ কুয়াশায়
যেখানে বৃষ্টি মিথ্যা
বৃক্ষের সবুজ মিথ্যা
নীলাকাশ এর নীল মিথ্যা
তুই সেই করাত কাটা নীলের মিথ
এখানে তুই মিথ্যা
..............................................................................

প্রিয় প্রতারক-৯


....................................................................................
তোর বাম ঠোঁটের পাহাড়ি ঢালে ছোট্ট এক মোহন কলঙ্ক ,মানচিত্রের প্রতিটি রেখায় শুভংকর সুত্রের বাহারি সবুজ মোড়া পথ; যেখান ফিরে যাবার গান;অযাচিত নাগরিক টার্নিং; লাল নীল হলুদ; চোখ ধাঁধানো ধুম্রজালের চক্করের গোলাকার ধাঁধাঁয় আমি গোলাকার ঘূর্ণিপাক; লাট্টু আর লেত্তির বৃত্তের মাঝে তোর নাভির গর্তে বেগুনি আঁকিবুঁকি...
.
এটা নিছক গল্প হলেও পারতো। চৌদ্দ নম্বর বসন্ত আঙিনার আবছা আকাশে ডিমকুসুম সূর্য; রেডিয়াম কুয়াশা বিন্দু জল এর প্রচ্ছদে তোর আলতো ভেজা শাড়ির পাড়;আলো চলে গেলে; আঁকা জানালায় ঝুলে থাকা পেইন্টিঙে ট্যাঙর পচা বিল; শেষ প্রান্তের জ্যোৎস্না;মরা তুলশিগঙ্গার পাড়ের বৃদ্ধ জারুল গাছ আর অচেনা ঝোপঝাড় ঘিরে অগুনতি জোনাকি মেলা, আর টিমটিম আলোয় তোর ধ্বল পাহাড় রোজ নিত্য নতুন সুতোর সবুজ লাল নীল আরও হরেক রঙের আড়ালে আঁকে অর্থনীতির নব্য মূল্যসূচক ঊর্ধ্বগতির;
কি জানি কিসের অভিশাপে নগরের এ খবরদারি আমাদের দূরত্বের কাঁটাতার!
কিসের ঈর্ষায়;
কিসের ঔদ্ধত্যে!
চাঁদ আর কৃষ্ণপক্ষে সাজানো কক্ষপথ দূরত্বে গ্যালাক্সির ভবঘুরে জ্যামিতিক গুন ভাগ! জোকার গ্যালিলিও গেয়েই চলে হেমলক গান!
.
মেঘাকাশের কান্না;কৃষ্ণচূড়া ছুটি চায় মৌসুমের কাছে ;রোজ দেয়ালে টানানো নিজের প্রতিকৃতি যিশুর আশীর্বাদ; ডান হাত উঁচিয়ে আলোর মোহ; ঈশ্বর তোমার ...
অনেকটা ঝিঁঝিঁ পোকার গান;পড়শি মৌসুমের কাছে; অথচ সেখানে রোজই নৈরাশ্যের গান বাজে...
এখন কদম সময়
ধুসর মৌনতা; বৃষ্টিজল ছুঁয়ে যায় মাটি কৈশোরের খেলনা; অথচ তোর রক্তজবা কোনটাই ছোঁয় না।
.
সেই দিগন্তহীন চেয়ে থাকা ধূসর আলোর
হাতে তোমার স্নিগ্ধ আঙুলে ঢুকে গ্যাছে, ক্রেডিট কার্ড এর পাসওয়ার্ড
নিউরনের নালায় ফুলস্পীড লৌহ রাক্তপাত
বেহুদা অকর্মা গোলাকার লজ্জা ভুলে তবু চেয়ে থাকে মদ্ধ্যরতের বারান্দায়
খসড়া ষড়যন্ত্র ।


....................................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ / ২১.০৬.১৬ মধ্যরাত

জং এবং উড়ন্ত মাল্টিকালার মাছি


..............................................................................
রাত বয়ে যায় মেঘ দৌড়ায়;তুলোর মতো
গুঁড়ো কালি;মোহময় জ্যোৎস্নায়
তুমি তন্দ্রাসুর বালিকা ওড়াও রঙিন পতাকা
বে
নি




লা
র সবকটি এলেবেলে যখন যা ইচ্ছে তখন তাই
তখনই দেখি এই মহানগরীর ইলেকট্রিক তারে ডানা ঝাপটাও
খসে পড়ার মতো দু একটা পালক আটকে থাকে পাখাদের আড়ালে
তখনও জ্যোৎস্না চলমান রেলগাড়ি
কার অপেক্ষায় এ সাজগোজ তোমার?
ঘুমে সাজগোজ
ঘুমে চলাফেরা
ঘুমে আসমানশহর
ঘুমে ঠিকানায়
বারবার ফিরে আসা সত্ত্বেও আঁকিবুঁকি অভিমানের দেয়ালে;পলেস্তারা খসে পড়া শহর শ্যাওলার গন্ধ মেখে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকে;নিটোল চোয়ালে ঘামদের ধারা
আর
আমিই বা কেনো দেখি;বেয়াহা বোধও পর্দা বন্ধ চোখে চমৎকার ঝমক ঝমক ঘুমনৃত্ত;রঙিন নাম না জানা রঙ
..............................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১৯.৬.১৭

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭

জিজ্ঞাসা;দিকচিহ্নহীন


...................................................................
.
ভুলগুলো কাঁটাতারে বিঁধে আছে চোখের সামনে ঝুলন্ত লাশ হয়ে,চোখ বোঝে না;বারংবার তাকায় ভাঙা আয়নার চোখে
ওরে চোখ তুই যে অন্ধ! জানালা বন্ধ করে একটু এগিয়ে যা;নেশাতুর মাতাল গেলাস ভেঙে চুর হয়ে আছে পথে;দেখতে দেখতে এঁকে ফেল একটা অমেরুদণ্ডী মন তারপর হেঁটে হেঁটে ক্ষয়ের চিহ্ন নিয়ে ফিরে চল চিৎ সাতারের দেশে-
এই মন্ত্র গায়ে মেখে এগুচ্ছিলো কতিপয় নাবিক;নোনা স্রোতে মিঠা জলের গীত ইতি টেনে নিচ্ছিলো ভাঙা দূরবীনের নিটোল নিঃশ্বাসে
যেখানে বিশ্বাস এঁকেছিলো একটা দ্বীপ
যেখানে একলা একটা শঙ্খচিল ছিঁড়ছিল ডানা
যেখানে বুকের কাঠিতে জ্বলছিল শিস দেয়া আগুন
যেখানে ক্ষুধার ক্ষুরধার বড়শিতে গেঁথে ছিলো মোহের মাছেরা
সেখানে কেন তুমি তুলি বুলিয়ে সবুজ হেসেছিলে?!
সেখানে একবার নয় একাধিক ঘড়ি বুকে জড়িয়ে খেলেছিলে সূর্যের তামাশা!?
সেখানে কেনোইবা চোরাবালি ঠিকানায় লিখে দিলে আদিম সুবাস
পুলকিতা,
সেই কতিপয় নাবিক এক হয়ে এখন আমিতে পরিপূর্ণ
আর সেই চোরাবালি এই আমাকে গিলে নিলো নিমিষে
এখন তোমাকে যদি সেই একলা ডানাছেঁড়া শঙ্খচিল নামে ডাকি
তাহলে কি মস্ত ভুল পাহাড়ের সাবধানী কাঁটা হতে পারবে?!
.
......................................................................
রুদ্র নীলিম/ নওগাঁ/ ১২.৬.১৭

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০১৭

লালা আর লালে লাল বৃত্ত

তোর নীল চোখ কোন এক লাল চোখের লালায় নুন হয়ে গেলো।
খুন হয়ে গেলো একটা আলোকিত রাত্তির;আঁধার তবু বেঁচে আছে
একটা শুভ্র সকালের অপেক্ষায়-
আমিও বুকের হাপর ফুলিয়ে আগুন জ্বালাই;একটা দেশলাই বিহীন
ছিন্ন পেন্ডুলাম বৃত্তে
যেখানে মাটি নেই;চোখ বুজে সবুজ দেখি-
দেখি শকুনের জন্মদিন;মৃত্যু যেখানে অর্থহীন আর জীবনই বা অর্থবহ হল কবে!?
এই এক খাতা নিয়ে বসে আছি লালছাতা আঁকা আকাশের নিচে
সাদা ছড়ি
সাদা পালক
সাদা কলম
সাদা কাদা
সব সাদা
বৈধতার টিকেট খুঁজি ব্ল্যাকহোল থিয়েটার চত্বরে
এখানেই প্রদর্শিত হচ্ছে বিস্ফোরণ বিষয়ক চলচ্চিত্র ।
.

বাউনডুলের চিঠি

ভুলে গেছিলাম আজ তোমার দিন ছিল,
ঘুম থেকে জেগে খবরের কাগজের সাদা মাঠের দিকে তাকাতেই কালো অক্ষরের সহাস্য চেহারা আমার চোখে আঙুল তুলে দিলো, বলল...
তোর কি কোনো মা নেই!?
তবে এই চোখ কোথায় পেলিরে হতচ্ছাড়া!
আমি বায়ুহীন পাল, হঠাৎ হুমড়ি খেলাম ভাবনার দমকা বাতাসে, বৈশাখী ঝড়ের মতো বাউনডুলে ঘূর্ণিপাকে পড়ে চেতনা পথ হারাল, দুঃস্বপ্ন ভেঙে ফিরে এলাম তোমার কাছে। তোমার গন্ধ খুঁজে হন্যে আমার কিশোর মন ডেকে ডেকে আবার পথ হারালো সময়ের গহীন বিভ্রাটে...

মা,
তোমার মনে আছে, শৈশবের কোলে তোমার জন্য আমি কতই না স্বপ্ন কুড়িয়েছি । কৈশোরের পায়ে কখনো তপ্ত অথবা শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে ছুটেছি ডানপিটে...
তোমাকে দ্যাখাবো বলে আনন্দে কুড়িয়েছি বৈশাখে শিমুলের সাদা যৌবন, বর্ষায় অথবা শরতে হাসিমুখ পানা বেগুনি সুখ, সেই থেকে আমার জগত আবিষ্কার আর আমাকে নিয়ে তোমার নিউরনে স্বপ্নের চাষবাস...
বাউরি বসন্তে আমিও অন্ধ হয়েছিলাম চোখে বয়সের ধুলো, তখন চোখখোলা স্বপ্নের নগ্নতা এ-কা-কা-র, রোজই হারাতাম আগামীর আবীর ধুলোয়। ফিরে এসে একই ছবি, তুমি আর আমার হাতে বোনা সেই শুপারি গাছটা, তোমার শাসনের এক হাত...
তারপর একদিন বাবার দেয়া অনাদর অবহেলা, তোমার চোখে অভিমানের সিন্ধু...
সেই জলে তুমি ডুবে গেলে ...!
ও মা,
জানো, ওই নুলো ভিখেরি আজও বেঁচে আছে, মন খারাপ থাকলে যে আমার হাততালি শোনার লোভে হাতের দোতারা বাজিয়ে "আমি পাগল হব পাগল নেবো যাবো পাগলের দেশে" আর দু'চোখে ফোয়ারার মতো জল...
আমি না হেসে পাগলের মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেই ও একচোখে তাকিয়ে আবার গাইত
অন্য কোন গান,আমার হাসি হাততালি শুনে ওর অন্ধ চোখটাও যেন হেসে উঠত। ভিক্ষে না নিয়েই চলে যেত...
ও এখন বয়সের দোষে অন্ধ, কোনরকম দেহটাকে টেনে আনে আজও তবু দোতারার তারে প্রাণ বেঁধে গেয়ে যায় সে-ই গান "আমি...
সেই গানের মর্ম এখন হাড়েহাড়ে বুঝতে পারি!
আমার বয়সের ঘরে সময়ের ধুলো জমে স্মৃতিগুলো ধুসর, তুমি তো জানো ঘূর্ণিঝড় আর ধুলোর সম্পর্ক যখন আদায় আর কাঁচকলায় তখন আমিও ক্লান্ত হব তোমাকে ডেকে ডেকে...
মাগো,
আজ তোমার দিন ছিলো!
কালও আমার সোনালী দিন তোমারিই হাতে,
হেসে খেলে সন্ধ্যা এলে, এই বাউনডুলে রোজই স্নেহের গন্ধ খুঁজে খুঁজে তন্দ্রায়
সমুদ্রে
নোনাজলে...
তুমি তো জানো তোমার স্নেহের যোগ্যতা আমি কখনও ছুঁয়ে দেখিনি, না হয় ভুল করেই তোমার পা'য়ের নীচে আমাকে রেখো...
....................................................................................
রুদ্র নীলিম/নওগাঁ /১০এপ্রিল২০১৫